॥ মুন্সী আবু আহনাফ ॥
আজকাল ফেসবুক, ইউটিউব খুললেই একটা অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, যাদের জন্ম একাত্তরের অনেক পরে, তারা হঠাৎ করেই ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে তুমুল আলোচনা-বিতর্কে মেতে উঠেছে। যে জিন্নাহকে একসময় আমরা কেবলই ‘উর্দু রাষ্ট্রভাষা’র গোঁড়ামির জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করাতাম, আজ ২০২৬ সালের বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, হঠাৎ এই জিন্নাহপ্রীতি বা জিন্নাহকে নিয়ে কৌতূহলের কারণ কী? এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের উপমহাদেশের ইতিহাসের গভীরে। যখন বাংলাদেশের মানুষ আজ নিজেদের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম অস্তিত্বের সংকটকে নতুন করে অনুধাবন করছে, তখনই ইতিহাসের পাতা উল্টে জিন্নাহর প্রাসঙ্গিকতা সামনে চলে আসছে। আসুন, কোনো আবেগ বা বিকৃতি ছাড়া, উপমহাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদদের বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টে সরল ভাষায় সত্যটা জানার চেষ্টা করি।
এক. ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান ও নেহেরুর ঐতিহাসিক ভুল; অখণ্ড ভারতের স্বপ্নভঙ্গ শুরু হয় সেখান থেকেই। আমরা অনেকেই ছোটবেলা থেকে পড়েছি, জিন্নাহ একগুঁয়েমি করে ভারত ভেঙে পাকিস্তান গড়েছেন। কিন্তু আধুনিক ইতিহাস চর্চা ও দলিলপত্র সম্পূর্ণ অন্য কথা বলে। জিন্নাহ আসলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একটি ফেডারেল বা যৌথ কাঠামোর অধীনে অখ- ভারত চেয়েছিলেন, যেখানে মুসলমানদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান ছিল অখ- ভারত ধরে রাখার শেষ সুযোগ। এই পরিকল্পনায় ভারতকে তিনটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার কথা বলা হয়েছিল, যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলো (যেমন বাংলা ও পাঞ্জাব) নিজেদের শাসন নিজেরা চালাতে পারতো, আবার কেন্দ্রে একটি যৌথ সরকার থাকতো। জিন্নাহ ও মুসলিম লীগ মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা হবে দেখে এই পরিকল্পনা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু জওহরলাল নেহেরু ও কংগ্রেস তা মানেননি। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ ড. আয়েশা জালাল তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ The Sole Spokesman: Jinnah, the Muslim League and the Demand for Pakistan-এ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লিখেছেন, “ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনাকে জিন্নাহর গ্রহণ করা প্রমাণ করে যে, তিনি একটি সুনির্দিষ্ট শর্তে ভারতের ঐক্য বজায় রাখতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু নেহেরুর ১০ জুলাই ১৯৪৬ সালের বোম্বাইয়ের সংবাদ সম্মেলন, যেখানে তিনি বলেন কংগ্রেস কেন্দ্রীয় আইনসভায় যেকোনো পরিবর্তন করতে পারে, তা জিন্নাহকে বাধ্য করে পাকিস্তান দাবিতে অনড় হতে।” (Jalal, Ayesha. The Sole Spokesman, Cambridge University Press, 1985, Page-201-205)। পাকিস্তানের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও গবেষক ড. ইশতিয়াক আহমেদ তাঁর Jinnah: His Successes, Failures and Role in History গ্রন্থেও একই মত দিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে কংগ্রেসের হিন্দু মহাসভাপন্থী মনোভাব এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের লোভ ভারতকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিয়েছিল। (Ahmed, Ishtiaq. Jinnah, Vanguard Books, 2020, Page-342)।
দুই. ১৯৪৬-এর রক্তাক্ত অধ্যায় হলো কলকাতা ও বিহারের মুসলিম গণহত্যা যা দেশ ভাগকে আরও একধাপ এগিয়ে দেয়। ইতিহাসের আরেকটি বড় মোড় হলো ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট মুসলিম লীগের ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস। কংগ্রেস যখন ক্যাবিনেট মিশন চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াল, তখন জিন্নাহ বুঝলেন ব্রিটিশরা মুসলমানদের কংগ্রেসের দয়ার ওপর ছেড়ে দিয়ে চলে যাবে। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য এই দিবসের ডাক দেন। কিন্তু তৎকালীন কলকাতার সাম্প্রদায়িক পরিবেশ এটিকে এক রক্তাক্ত দাঙ্গায় রূপ দেয়, যা ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নামে পরিচিত। এর পরপরই অক্টোবর-নভেম্বরে বিহারে শুরু হয় মুসলিম নিধনযজ্ঞ। বিহারের দাঙ্গায় হাজার হাজার নিরীহ মুসলমানকে জীবন্ত পুড়িয়ে, কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ভারতের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ সুমিত সরকার তাঁর Modern India: ১৮৮৫-১৯৪৭ গ্রন্থে এই দাঙ্গার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। বিহার দাঙ্গায় মুসলমানদের ওপর যে অমানবিক নির্যাতন হয়েছিল, তা মুসলমানদের মনে এই বিশ্বাস দৃঢ় করে যে, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতে মুসলিমদের জানমালের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। (Sarkar, Sumit. Modern India, Macmillan, 1983, Page-432-435)। বাংলাদেশ ও ভারতের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. জয়ন্তী মৈত্রের Muslim Politics in Bengal ১৯৩৭-১৯৪৭ গ্রন্থে উল্লেখ আছে কীভাবে এই দাঙ্গাগুলোর পর বাংলার সাধারণ মুসলিম সমাজ জিন্নাহ ও মুসলিম লীগের পতাকাতলে এসে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিল। কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল, জিন্নাহ ছাড়া তাদের বাঁচানোর মতো কোনো রাজনৈতিক শক্তি নেই। (Maitra, Jayanti. Muslim Politics in Bengal, Writers Workshop, 1984, Page-210)।
তিন. ১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগে জিন্নাহর ভূমিকার চেয়েও কংগ্রেসের জেদ এবং হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ভূমিকা বেশি ছিল। আমাদের বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করেন, জিন্নাহ জোর করে বাংলা ভাগ করেছিলেন। অথচ ইতিহাস সম্পূর্ণ উল্টো। জিন্নাহ স্বয়ং এবং বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শরৎচন্দ্র বসু চেয়েছিলেন একটি “স্বাধীন অখণ্ড বাংলা” (United Independent Bengal)। যেখানে হিন্দু ও মুসলমান মিলে একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠন করবে, যা ভারত বা পাকিস্তান কোনো দেশেই যোগ দেবে না। জিন্নাহ এই স্বাধীন বাংলার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব (নেহেরু ও প্যাটেল) পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ভারত ভাগ হোক বা না হোক, বাংলা ভাগ করতেই হবে যাতে হিন্দু প্রধান এলাকাগুলো ভারতের অংশ হতে পারে।
ভারতের বিখ্যাত বাঙালি ইতিহাসবিদ ড. জয় চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Bengal Divided: Hindu Nationalism and Partition, ১৯৩২-১৯৪৭-এ তথ্যপ্রমাণ সহ দেখিয়েছেন যে, বাংলা ভাগের জন্য মুসলিম লীগ নয়, বরং কলকাতার উচ্চবর্ণের হিন্দু ভদ্রলোক সমাজ এবং কংগ্রেসের সাম্প্রদায়িক নীতিই দায়ী ছিল। তারা মুসলমানদের অধীনে বা সমান অধিকারে একটি অখ- বাংলায় থাকতে রাজি ছিলেন না। (Chatterji, Joya. Bengal Divided, Cambridge University Press, 1994, Page-227-231)। বাংলাদেশী ইতিহাসবিদ ড. হারুন-অর-রশিদ তাঁর The Foreshadowing of Bangladesh: Bengal Muslim League and Muslim Politics ১৯৩৬-১৯৪৭ গ্রন্থে লিখেছেন, “সোহরাওয়ার্দী-শরৎ বসুর স্বাধীন অখ- বাংলার পরিকল্পনাকে জিন্নাহ সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। কিন্তু মাউন্টব্যাটেন এবং নেহেরুর চাপের মুখে তা ভেস্তে যায়। জিন্নাহ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কলকাতাসহ পুরো বাংলাকেই পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন।” (Rashid, Harun-or-Roshid. The Foreshadowing of Bangladesh, UPL, 2003, Page-280-285)।
চার. পূর্ব বাংলাকে কেন জিন্নাহ পাকিস্তানের সাথে রেখেছিলেন? অনেকে প্রশ্ন তোলেন, হাজার মাইলের ব্যবধানে থাকা পূর্ব বাংলাকে কেন পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করা হলো? ভৌগোলিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও জিন্নাহ কেন এই ঝুঁকি নিলেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তির আকাক্সক্ষার মধ্যে। ১৯ শতক এবং ২০ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার জমিদারী প্রথার কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম কৃষকরা চরম শোষণের শিকার হচ্ছিলেন। শিক্ষা, চাকরি এবং অর্থনীতিতে মুসলমানরা ছিলেন অনগ্রসর। জিন্নাহ ভালো করেই জানতেন, পূর্ব বাংলা যদি ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়, তবে আসামের মুসলিমদের মতো এখানকার মুসলমানরাও চিরকাল প্রান্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে থাকবে। জিন্নাহর প্রধান লক্ষ্য ছিল উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলা। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৪০ সালে যে ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপন করেছিলেন, তার মূল ভিত্তিই ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের স্বাধিকার। জিন্নাহ পূর্ব বাংলার মুসলমানদের এই মুক্তির আকাক্সক্ষাকে সম্মান জানিয়েই একে পাকিস্তানের অংশ করেছিলেন, যাতে তারা নিজেদের অর্থনীতি ও সমাজ নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আজকে আমরা যে স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দেখছি, যেমন আমাদের পাট চাষের জমি, নদীমাতৃক কৃষি এবং মধ্যবিত্ত মুসলিম সমাজের বিকাশ, তার প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মাধ্যমেই, যা ভারতের বড় পুঁজি ও জমিদারী শোষণের কবল থেকে এ অঞ্চলকে মুক্ত করেছিল।
পাঁচ. বর্তমান বাংলাদেশের সোস্যাল মিডিয়ায় জিন্নাহকে নিয়ে যে তুমুল ঝড় উঠেছে, তার গভীর একটি মনস্তাত্ত্বিক ও তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে। এটিকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় বলা যেতে পারে “ঐতিহাসিক স্মৃতির পুনর্জাগরণ”। ১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়, অত্যাচার ও সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের সেই স্বাধীনতা ছিল শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব (Two-Nation Theory) সম্পূর্ণ ভুল ছিল। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন বাংলাদেশের মানুষ কাশ্মীরী মুসলমানদের দীর্ঘশ্বাস দেখে, ভারতের আসামে নাগরিকত্ব আইনের (NRC/CAA) নামে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে রাষ্ট্রহীন করার পাঁয়তারা দেখে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদের উত্থান লক্ষ্য করে, তখন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষিত তরুণরা জিন্নাহর দূরদর্শিতাকে নতুন করে আবিষ্কার করছে। জিন্নাহ আজ থেকে ৮০ বছর আগেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, একটি অখ- ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতে মুসলমানদের ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার কোনোদিনই নিরাপদ থাকবে না। যদি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি না হতো, তবে আজকে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বই থাকত না। আমরা হয়তো ভারতের একটি অবহেলিত, প্রান্তিক প্রদেশ হিসেবে ওপার বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও আসামের) মুসলমানদের মতোই চাকরি, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পিছিয়ে থাকতাম।
পরিশেষে. ইতিহাস কোনো সরলরৈখিক বিষয় নয়। জিন্নাহ কোনো ফেরেশতা ছিলেন না, মানুষ হিসেবে তাঁরও রাজনৈতিক ভুলত্রুটি ছিল। কিন্তু উপমহাদেশের মুসলিমদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তাঁর অবদানকে অস্বীকার করা চরম ঐতিহাসিক অন্যায়। আজ বাংলাদেশের সোস্যাল মিডিয়ায় জিন্নাহকে নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তা কোনো অন্ধ উপাসনা নয়। এটি হলো ইতিহাসের সত্যকে তার নিজস্ব আলোয় চেনার চেষ্টা। বাংলাদেশের ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী প্রতিটি নাগরিকের আজ জানা প্রয়োজন যে, কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর লড়াকু নেতৃত্বের কারণেই এই অঞ্চলের মুসলমানরা একটি স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ার প্রথম সুযোগ পেয়েছিল। আমরা ১৯৭১-কে ধারণ করব পরম গৌরবে, কিন্তু ১৯৪৭-এর ইতিহাস এবং জিন্নাহর অবদানকেও অবহেলা করব না। কারণ যে জাতি নিজের শেকড় এবং ইতিহাসের সত্যকে স্বীকার করতে ভয় পায়, তারা কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।