‘রক্তে লেখা বিপ্লব, যুক্তিতে গড়া আগামী’ স্লোগানকে ধারণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই দিনব্যাপী ‘ডি এফ আই আর আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর পর্দা নেমেছে। এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ এবং রানার্সআপ হয়েছে ইতিহাস বিভাগ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের বিতর্ক সংগঠন ডিবেটিং ফোরাম অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস (ডিএফআইআর) এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকাল সাড়ে চারটায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি ড. সজীব বালা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. খোঃ লুৎফুল এলাহী।
চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিতার্কিকরা হলেন মোয়াজ হাসান, মোহাম্মদ আফসানুর ইসলাম এবং শেখ রাহাত সিদ্দিকী। অন্যদিকে রানার্সআপ দল ইতিহাস বিভাগের হয়ে লড়েছেন আসিফ আল ইমরান, মাহদি আল হোসাইন এবং শাহেদ হাসান।
এর আগে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রতিযোগিতার প্রথম দিনের বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি বিভাগের মোট ৬০ জন বিতার্কিক অংশ নেন। আয়োজনের উদ্বোধন করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. খালিদ কুদ্দুস, অধ্যাপক ড. আলী আকবর এবং সহযোগী অধ্যাপক তাসমিয়া পারসুব। বাংলাদেশের সব বিপ্লবের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে বিতার্কিকরা যুক্তিতর্কে মেতে ওঠেন। দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা এতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আয়োজকরা জানান, প্রথম দিন তিনটি রাউন্ড শেষে চারটি দল প্রি-সেমিফাইনালে এবং দুটি দল সরাসরি সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। এছাড়া মোট ছয়জন স্পিকার ব্রেক করেন। এই আয়োজনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নাজমুল ওয়ারা তালহা এবং সহ-আহ্বায়ক ছিলেন আয়েশাতুন ফারিয়া।
পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. খোঃ লুৎফুল এলাহী বলেন, “বিতর্ক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজের বক্তব্য যৌক্তিকভাবে তুলে ধরা এবং অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। এই চর্চার মাধ্যমে কোনো বক্তব্য যেমন প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তেমনি তা খণ্ডনও করা যায়। আমি প্রত্যাশা করি, আগামী দিনে এই বিতার্কিকরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর পরিসরে এবং জাতীয় পার্লামেন্টেও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখবে।”
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ড. সজীব বালা বলেন, “এত অল্প সময়ে ১৮টি দলের অংশগ্রহণে এমন চমৎকার একটি আয়োজনের জন্য আয়োজকদের সাধুবাদ জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রথম অগ্রাধিকার লেখাপড়া হলেও, এর পাশাপাশি এ ধরনের গঠনমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে, তারা যেন কোনোভাবেই মাদকের মতো ধ্বংসাত্মক কিছুর প্রতি আসক্ত না হয়।”
আয়োজনের উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক নাজমুল ওয়ারা তালহা বলেন, “জুলাই মাস বিপ্লবের মাস। আমাদের বাংলায় যত বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে, তারই প্রেরণায় আমাদের এই আয়োজন। যুক্তির মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকুক আমাদের বিপ্লব। মুক্তবুদ্ধির বিপ্লব ঘটাতেই আমাদের এই উদ্যোগ।”