স্টাফ রিপোর্টার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পারসোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) কার্যালয় হঠাৎ পরিদর্শনে এসে এ নির্দেশ দেন। এটি প্রধানমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান স্পারসোর কার্যালয় ঘুরে দেখেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি বিভাগ পরিদর্শন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। স্পারসোর চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রমসহ সার্বিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। পরে স্পারসোর বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের উদ্ভাবন, গবেষণা এবং চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পারসোকে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী, স্বনির্ভর এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্পারসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
উল্লেখ্য, স্পারসো দেশের মহাকাশ বিজ্ঞান, উপগ্রহ প্রযুক্তি এবং দূর অনুধাবন প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন ও প্রয়োগে নিয়োজিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
এদিকে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু এলাকার তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের সংগ্রামের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।
তিনি বলেন, 'প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন তাঁর সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নিজেই নৌকা চালান। শুধু মার্চ ও এপ্রিল মাসে নৌকা চালিয়ে তিনি ৪০ হাজার টাকা আয় করেন, যার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করেন সহকর্মীদের বেতন পরিশোধে।' আতিকুর রহমান বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি বিদ্যালয় টিকিয়ে রাখাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এই প্রধান শিক্ষক অনুপ্রেরণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিষয়টি জানার পরপরই প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।