# সকল মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বাড়ানো হোক।
# অর্থবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর করা হোক।
# আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার অন্ধকারের মুখে।
সংসদ রিপোর্টার
বিগত সাড়ে পনের বছরে পাচারকৃত ২৮ লাখ কোটি টাকা কিভাবে ফিরিয়ে আনা হবে তার কোন গাইডলাইন বাজেট প্রস্তাবে নাই উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পাচারকৃত অর্থের নয় ভাগের এক ভাগ যদি আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি, তাহলে আমাদের কোন বাজেট ঘাটতি থাকবে না। তিনি টাকা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অপরাধীদেরও ফিরিয়ে এনে বিচার করার আহ্বান জানান।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় তিনি একথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বাজেট ঘাটতি সর্ম্পকে বলেন, ২৮ লক্ষ কোটি টাকা সাড়ে ১৫ বছরে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সেই পাচার করা অর্থ কিভাবে ফিরিয়ে আনা হবে, এই বাজেটে তার কোন গাইডলাইন নাই, কোনো প্রস্তাবনা নাই। ওই পাচারকৃত অর্থের নয় ভাগের এক ভাগ যদি আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি, যদি সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে আমাদের কোন বাজেট ঘাটতি থাকবে না। এ টাকা জনগণের। এই টাকা ডাকাতি, চুরি করে, লুণ্ঠন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জনগণের সম্পদ জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হবে। আর সম্পদের সাথে কালপ্রিটদেরকেও ফিরিয়ে আনতে হবে। আর এই বিষয়টা যদি উপেক্ষা করা হয়, তাহলে আগামীতে এর চাইতে বড় ডাকাত তৈরি হবে।
তিনি বলেন, আমি চিকিৎসা শাস্ত্রের একজন ক্ষুদ্র ছাত্র। অল্পদিন সরকারি চাকরি করেছিÑ তারপরেও যা দেখি সমাজের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেÑ আমাদের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের জন্য আমাদের কোন ভিশন আমার কাছে ধরা পড়ে না। আমাদের চিকিৎসক যারা আছেন, ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে কপি অ্যান্ড পেস্ট। আমরা বিদেশকে নকল করি। আমরা নিজেরা কোনো প্রযুক্তি উদ্ভাবন করি না। একই ক্রাইসিস এখানে, অথচ এটি হচ্ছে একটা শতভাগ ক্লিনিক্যাল অরিয়েন্টেড শিক্ষা। এখানে বই মূল বিষয় নয়, এখানে পেশেন্ট মূল বিষয়। এই নিয়ে আমাদের কোনো ভিশন আমার কাছে মনে হয় না। আমরা জোড়াতালি দিয়ে চলছি। এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে একটা ভিশনারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নিতে হবে। এবং এটি সম্ভব। আমাদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই, পরিবেশের অভাব। এই পরিবেশটা নিশ্চিত করা হোক, আমি দোয়া করি এবং আহ্বান জানাই। এখানে আবার আরেকটা বৈষম্য আছে। আমাদের কিছু রেগুলেটরি সংস্থা আছে স্বাস্থ্যে, তারা ইন্সপেকশনে যান, ইভালুয়েশন করেন, খুব গুরুত্ব দিয়ে খুঁটে খুঁটে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধরেন। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও ওইরকম ইন্সপেকশন করা, ইভালুয়েট করা তাদের একই দায়িত্ব। সেখানে তারা এটা করেন না। সেখানে মহাপাপ করেও সবাই বহাল তবিয়তে থাকে। সেখানে কোন ধরনের অ্যাকশন নেওয়া হয় না। এটা এখন নতুন না, ওই চলে আসছে ধারাবাহিকভাবে।
চিকিৎসা শিক্ষা সর্ম্পকে তিনি বলেন, এই দেশে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদেশ থেকে ছাত্র-ছাত্রী আসার তেমন সুযোগ নেইÑসার্কের একটু সুযোগ ছাড়া। এটাও খুব সীমিত। কিন্তু বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে বিপুল সংখ্যক বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী এখানে আসে। এর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে যেমন এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে প্রচুর পরিমাণ রেমিট্যান্স আর্ন করারও আমাদের সুযোগ রয়েছে। অতএব, সমান এই দুইটাকে যেন সার্ভিল্যান্সে রাখা হয়, সেটিই হচ্ছে আমার দাবি।
বিরোধীদলীয় নেতা আদ-দ্বীন হাসপাতাল সর্ম্পকে বলেন, সম্প্রতি আদ-দ্বীন হসপিটাল নিয়ে এখানে কথা হয়েছে অনেক কথা। আমি ওই সমস্ত তর্কে যাচ্ছি না। শুধু মানবিক একটা দিক, সরকারকে বিবেচনায় নেওয়ার জন্য অনুরোধ করব। এই মেডিকেল কলেজটাÑহাসপাতালটা একটা মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল। এইটার সাথে প্রায় সাড়ে সাতশত ছাত্র-ছাত্রী, মেডিকেল স্টুডেন্টের সম্পর্ক, এবং প্রায় সমপরিমাণ নার্সের সম্পর্ক। এরা বই পড়ে ডাক্তার হতে পারবে না এবং কেবল বই পড়ে নার্সও হতে পারবে না। এদের রোগী লাগবে, হাসপাতাল লাগবে। তাদের কোন বিকল্প অ্যারেঞ্জমেন্ট না করেই হাসপাতাল যদি বন্ধ রাখা হয়, তাহলে এই ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যারিয়ারের দায়িত্ব কে নেবে? অনুরূপভাবে বিদেশ থেকে পরবর্তীতে এই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর কোনো ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হওয়ার কোনো আগ্রহ রাখবে না। বলবে, মাঝপথে আমরা ব্ল্যাকআউট হয়ে যাব। এই সিদ্ধান্তহীন, অস্থিতিশীল, অনিশ্চিত গন্তব্যে আমরা যাব না। তাতে কি দেশের লাভ হবে? এখানে যারা কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে, যারা মালিকপক্ষ আছেনÑসংঘটিত ঘটনার জন্য আমরা সকলেই খুবই অনুতপ্ত, আমরা শোকাহত। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে কারও দোষ প্রমাণিত হলে তার বিচার হোক, শাস্তি হোকÑআমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সংস্কার যেটা দরকার, সময় বেঁধে দিয়ে সেটা করেÑএই হসপিটাল অতিসত্বর খুলে না দিলে এই সমস্ত জিনিস ঝুঁকিতে পড়বে। এটা ঠিক, হয়তোবা তাদের কোনো দুর্বলতার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এটাও ঠিক যে, এখান থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ সেবা পেয়েছে। এবং তারা এমন কিছু সেবার অ্যাভিনিউ এখানে দিতে পেরেছেÑআমিও একটা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত, আমি বলছিÑআমি ওটা দিতে পারি নাই, এর ধারেকাছেও আমি দিতে পারি নাই। তাদের ভালোকেও অ্যাপ্রিশিয়েশন দেওয়া হোক, আর তাদের কোনো অপরাধ থাকলে সেটাকেও বিবেচনায় নেওয়া হোক। কিন্তু আমাদের পদক্ষেপটা হোক মানবিক এবং যৌক্তিক। আমি বিশেষ করে মেডিকেল স্টুডেন্ট এবং নার্সদের তাদের একাডেমিক ক্যারিয়ার এবং জীবন বাঁচানোর জন্য আমি সরকারকে এ বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করব।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমি আমার বক্তব্যের সূচনাতেই গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি এবং তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করছিÑমরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আল্লাহ তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, যার অসামান্য অবদান রয়েছে এ জাতির জন্য। জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী, যিনি মুক্তিযুদ্ধে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আবদুর রব, যিনি সাহসী যুবক হিসেবে সেদিন গর্জন করেছিলেন। সকল শহীদ এবং জীবিত মুক্তিযোদ্ধা, ৯০-এর গণআন্দোলনের শহীদ, ২৮ অক্টোবরের শহীদ, পিলখানা হত্যাকা-ের শহীদ, শাপলা চত্বরের শহীদ, সাড়ে ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছেনÑবিশেষ করে আমার প্রিয় দলের সম্মানিত সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আমরা একটি কষ্টে ভোগা দল। আমাদের এক দুই করে ১১ জনকে আমাদের বুক থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, ১২ নম্বর জন এখানে জীবিত আছেন। বাকি সকলেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তাদের সকলকে শহীদের যথাযথ মর্যাদা দান করুন। তাদের দুঃখী পরিবারের প্রতিও আমি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সেই সাথে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদ, আহত এবং পঙ্গু এবং ফ্যাসিবাদী আমলে গুম হওয়া সকল পরিবার, ব্যক্তিÑতাদের সকলের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা এবং সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। পিলখানায় নির্মমভাবে যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে, জাতির শৌর্যবীর্যের জায়গায় মূলত আঘাত দেওয়া হয়েছে। আমি তাদেরকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে তাদের শাহাদাত কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করছি।
তিনি বলেন, অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের এই পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। আশা করি, যেই পার্লামেন্ট এমন কোন আচরণ করবে না যেটা মজলুম দেশবাসীকে আহত করে। এই পার্লামেন্ট দায়িত্বশীল আচরণ করবে, জাতিকে স্বপ্ন দেখাবে, জাতিকে জাগিয়ে তুলবে, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবে এবং জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।
তিনি বাজেট আলোচনা সর্ম্পকে বলেন, একটা চমৎকার টেন্ডেন্সি আমি লক্ষ্য করেছি। প্রায় সকল বক্তাই কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন এগুলো ছাড়েন, ছাড়িয়ে আসেন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশটা চালাই। ওই কুচি কুচি করার যন্ত্রটা আসেন আমরা ফেলে দেই। আমরা একটা বিউটিফুল, ওয়ান্ডারফুল কম্বিনেশনে চলি। এর অর্থ এটি নয় যে, সরকারি দলের যেটা অভিপ্রায়Ñবুঝে না বুঝে সেটাই হবে বিরোধী দলের অভিপ্রায়। আবার এর অর্থ এটিও নয় যে, সরকারি দল সংগত কোনো বিষয় নিয়ে সামনে আগালে বিরোধী দল বিরোধিতার খাতিরে শুধু বিরোধিতাই করে যাবে; এই দুইটার কোনোটিই না। সরকারি দলকেও বিরোধী দলকে সম্মান করার মানসিকতা থাকতে হবে, আর বিরোধী দলেরও সংগত সকল ব্যাপারে সরকারকে সহযোগিতা করার মানসিকতা থাকতে হবে। এই কথাটি আমরা প্রথম দিনই বলে রেখেছি। জনগণের টাকা খরচ করে এই এই সংসদে এটা হওয়া উচিত নয়। এটা তোষামোদের জায়গা নয়। এটা দায়িত্ব পালনের জায়গা। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জায়গা, দায়িত্ব পালন করার জায়গা।
তিনি বলেন, বাজেট মূলত একটি জাতির টিকে থাকার এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার চার্টার। আমি ধন্যবাদ জানাই মাননীয় অর্থমন্ত্রীকেÑসরকার গঠনের পরে খুব কম সময় পেয়েও একটা বিধ্বস্ত অর্থনীতির ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে তিনি সংসদে একটা বাজেট পেশ করেছেন। তিনি তার জ্ঞান মতো এই বাজেটকে সর্বোচ্চ চূড়ায় নিয়ে যাওয়ার, সুন্দর করার তিনি চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারপরেও তিনি এবং তার টিমÑব্যক্তিগতভাবেও মানুষ, সমষ্টিগতভাবেও মানুষ। মানুষের কোনো প্রয়াস সম্পূর্ণভাবে ভুলের ঊর্ধ্বে হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এর মধ্যে ত্রুটি এবং ঘাটতি থাকবেÑএটাই স্বাভাবিক। এটি আমি করলেও থাকত। বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে ওয়াচডগের কাজ করা।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রেওয়াজ অনুযায়ী সম্পূরক বাজেটের উপরে কাট মোশন ছিল, সেখানে একটাও গ্রহণ করা হয় নাই। যদি এক টাকার একটাও গ্রহণ করা হতো, তাহলে ডেমোক্রেসিতে সুন্দর একটা চ্যাপ্টার যুক্ত হতো।
তিনি ফিসক্যাল ইয়ার সর্ম্পকে বলেন, এটা জুলাই টু জুন হওয়ার কারণে এবং শেষের দিকটা বন্যা-দুর্যোগ থাকার কারণে তাড়াহুড়া করে অর্থ ছাড় হয়। পরে এখানে অপচয় এবং লুটপাটের দুয়ার উন্মুক্ত হয়ে যায়। আমাদের প্রস্তাবনাÑ ফিসক্যাল ইয়ারটা আমাদের ক্যালেন্ডার ইয়ারের সাথে মিলিয়ে দেওয়া হোক; অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরÑএই সময়টা হোক ফিসক্যাল ইয়ার।
তিনি বাজেট বাস্তবায়ন সর্ম্পকে বলেন, আমাদের সমাজে বাজেট বাস্তবায়ন বা উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে দুর্নীতি, জবাবদিহিতার অভাব, সততা-স্বচ্ছতার অভাব। এটি আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ একদিনে দূর হবে না, কিন্তু কোনো একটা জায়গা থেকে শুরু করতে হবে।
শিক্ষা খাত নিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে আমাদের কোন নির্দিষ্ট ভিশন নেই। এবং সেই জায়গায় দক্ষতা বৃদ্ধির এবং দক্ষ লোকের সম্মান করার কোন জায়গা নেই। বরাবরই রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে, নিজেদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার লালন পালন করার কারণে আমাদের শিক্ষা পিছিয়ে আছে, পিছিয়ে যাচ্ছে। নন এমপিওভুক্ত যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে ফ্যাসিস্ট আমলে বাস্তবতা থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি। একটা কমিটি বা কমিশন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যাচাই-বাছাই করে যেগুলো এমপিওভুক্ত হওয়া উচিত তাদেরকে আর ঝুলিয়ে না রেখে তাদের উপর আর জুলুম অব্যাহত থাকুক এটা আমরা চাইনা।
তিনি আমদানি রফতানি সর্ম্পকে বলেন, আমরা যে সমস্ত ক্যাপিটাল মেশিনারি, লজিস্টিক এবং আমাদের প্রয়োজনীয় পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকি, তাকে আমদানিই করতে থাকব আর শুধু খুঁজতে থাকব যে কোন দেশ থেকে ভালো আমদানি করা যাবেÑনাকি একদিন আমরাও রপ্তানি করার জন্য এই পণ্যগুলো তৈরি হব? জাতিকে যদি এই ক্ষেত্রে তৈরি করতে হয়, অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। এবং আমি অনুরোধ করব, শিক্ষায় যে ফান্ড দিয়েছেন, যদি আরও সম্ভব হয়, আরও ফান্ড দিয়ে স্পেশাল এলোকেশন দিয়ে অন্তত পাঁচ-সাতটা ইউনিভার্সিটিকে স্পেশালি ডেজিগনেট করা দরকার, স্পেশাল অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া দরকার যে আমাদের জাতি আপনাদের কাছ থেকে এইটি চায়।
তিনি বাজেট সর্ম্পকে বলেন, এই বাজেটকে আমি বড়ও বলব না, ছোটও বলব না, মধ্যমও বলব না। আমি বলব জাতির প্রয়োজনে যা দরকার, সেই রকম বাজেটই নিতে হবে। আমি এটাও বিশ্বাস করি, রেভিনিউ আহরণে আমাদের যে আশঙ্কা অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে, সরকার নিজে যদি সৎ হয় এবং সদিচ্ছা থাকে, তাহলে যে রেভিনিউ টার্গেট এখানে আমরা ফোকাস করেছি, তার চাইতে বেশি রেভিনিউ আহরণ করা সম্ভব। তবে তিনটা বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের দেশে একটা হচ্ছে সরকারি ট্রেজারিতে জমা হয়, আরেকটা কিছু অসৎ লোকের পকেটে যায়Ñযারা এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত, আর আরেকটা চাঁদাবাজদের পকেটে যায়। এরকম যারা আয় করেন, তাদেরকে যদি নিশ্চয়তা দেওয়া হয় ট্যাক্স শুধু একটাই হবে, দ্বিতীয়টা আর তৃতীয়টা থাকবে না, তাহলে আমি বিশ্বাস করি, স্বপ্রণোদিত হয়ে এই সমস্ত ব্যবসায়ীরা আরও বেশি ট্যাক্স দিতে তারা আগ্রহী হবেন।
বিরোধীদলীয় নেতা প্রবাসীদের সর্ম্পকে বলেন, প্রবাসীরা আমাদের সমাজের অংশ। কিন্তু এই বাজেটে প্রবাসীদেরকে আস্থায় আনার, সম্মানিত করার বিশেষ কোনো উদ্যোগ আমার কাছে আমি লক্ষ্য করিনি। এই সংসদ থেকে একটা বিশেষ কমিটি বা টাস্কফোর্স করা হোক, যারা এই বিষয়গুলো নিয়ে মুভ করবে, দেশে দেশে তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করবে। তাদের আস্থা ফিরে আসুক। যদি আমরা স্বচ্ছতা মেইনটেইন করতে পারি, আমাদের প্রবাসী ফ্লো আবার বেড়ে যাবে, অনেক বেড়ে যাবে। আর না হয় মালয়েশিয়ার মতো বারবার বাধাগ্রস্ত হবেÑএই খুলবে, এই বন্ধ হবে; দরজা খুলবে, জানালা বন্ধ হবে; জানালা খুলবে, দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। এই বিপদ থেকে বের হয়ে আসা দরকার।
বিরোধীদলীয় নেতা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, এই বাজেটে আমাদের ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের পূর্বের ভাতাটা বহাল রাখা হয়েছে; খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমি অনুরোধ করব, সকলেরটা বৃদ্ধি করে দেন। প্রয়োজন সবার আছে। খেতাব যারা পেয়েছেন তাদেরকে তো জাতি আলাদা সম্মান করে, কিন্তু প্রয়োজনটা আছে সবার। এজন্যে সবাইকে এই জায়গায়, সম্মানের জায়গায় আমরা নিয়ে আসি।
তিনি ২৮ অক্টোবরে ঘটনার কথা উল্লেক করে বলেন, গত সাড়ে ১৭ বছরে যত মানুষ জুলুমের শিকার হয়েছে, এমনকি ২৮ অক্টোবর থেকেÑ২৮ অক্টোবর শুধু জামায়াতের লোকেরা নিহত হয় নাইÑএকদিনেই ৩৪ জন মানুষ বিরোধী দলের নিহত হয়েছিল। তার মধ্যে ১৪ জন জামায়াত ইসলামীর, ২০ জন বিএনপির। পল্টনের ঘটনাটা ছিল সবচাইতে লোমহর্ষক, হৃদয়বিদারক, অমানবিক, পাশবিক। এই জন্য এইটা রেকর্ডে গিয়েছে। তাদেরকেও এই মজলুমের তালিকায় এনেÑসাড়ে ১৭ বছরে যারা খুন এবং গুমের শিকার হয়েছেন, তাদের সকলকে বিবেচনায় আনা দরকার। জুলাই আন্দোলনে, জুলাই যোদ্ধাদের যে সম্মান দেখানো হয়েছে, বিগত সরকার এইটা দেখিয়েছেন। আমি অনুরোধ করব এইটাকে আরও আপহোল্ড করার জন্য। এই সরকার যেন আরও নতুন কিছু ভালো যোগ করে দেন। তাহলে এই দেশের মায়েদের গর্ভে বেশি বেশি করে বীর জন্ম নিবে ইনশাআল্লাহ। যখন বীর মাতারা দেখবে তাদের সন্তানদেরকে সম্মান করা হচ্ছে, তখন এই দেশ বীরের দেশে পরিণত হবে। এর সর্বশেষ ভিকটিম হচ্ছে শরীফ ওসমান হাদী। আল্লাহর দরবারে তারও শাহাদাত কামনা করছি। এই সবগুলার শুধু সামাজিক মূল্যায়ন নয়, বিচারিক মূল্যায়নও হতে হবে। সব কালপ্রিটদেরকে, সে যত বড় হোক, যত উঁচু মাপের হোক, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
বিচার ব্যবস্থা সর্ম্পকে তিনি বলেন, সরকারের এই যে চার মাসে, একটা গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিচারের যে গতিÑএই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং পরিবার আশা করেছিল, সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই এই বিচারে।
বিরোধীদলীয় নেতা নিজ এলাকা সর্ম্পকে বলেন, যে এলাকার মানুষ আমাকে নির্বাচিত করে এখানে পাঠিয়েছেÑমিরপুর, কাফরুলের (ঢাকা-১৫) আসনের মানুষÑতাদের কিছু সুখ-দুঃখের কথা বলেছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সদয় হয়ে আমাকে তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন যে, আপনার ওই বিষয়গুলো আমাকে আপনি দিয়ে সহযোগিতা করুন, তথ্য দিয়ে। আমি চার দিনের মাথায় সেটা তাঁর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলাতে পৌঁছিয়েছি। এরপরে আবার কিছুদিন আগে একটা সফট রিমাইন্ডার দিয়েছি। হয়তো অনেক কাজের ভিড়ে, চাপে তিনি এদিকে খেয়াল দিতে পারেন নাই। কিন্তু আমি যে একটা ভুল করে ফেলেছি! আপনার এই আশ্বাসের পরে আমি যে এলাকার জনগণকে বলেছি যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটার দায়িত্ব নিয়েছেন, আপনারা আশ্বস্ত থাকুন। পানির জন্য এখন ডেইলি সেখানে মানুষ বিক্ষোভ করে। আবার কিছু অসাধু ব্যক্তি, রাজনৈতিক যোগসাজশে রাতের বেলা এরা পানির পাইপ কেটে বিভিন্ন জায়গায় তাদের পাওনাটা আদায় করে, অবৈধ পাওনা আদায় করে সেখানে পানির অবৈধ সংযোগও দিচ্ছে। এখন আর এই এলাকা আমার থাকে না, এই দায়িত্ব আপনি নিয়েছেন, এখন এই এলাকা আপনার।
তিনি বলেন, আমি সিলেটের মানুষ। ঢাকা-সিলেট যে মহাসড়ক, ছয় লেনের কাজ শুরু হয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে। কিন্তু এইটা দেখে মনে হচ্ছে, এইটা বোধহয় আগ্রার তাজমহল জাতীয় কিছু হবে। কত বছর লাগবে আমরা জানি না। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলÑযশোর, খুলনা এবং সাতক্ষীরাÑএই তিনটা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ওয়াটার লগড হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এর কোন সমাধান নাই। ফলে কৃষক, কৃষি সবকিছু ঝুঁকিতে পড়েছে, এমনকি শিল্পও ঝুঁকিতে পড়েছে। আমি অনুরোধ করব, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই বিষয়টার প্রতি নজর দিন।
তিনি বলেন, ভোলা দেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা। এই জেলাটি অন্য কোন জেলার সাথে স্থলভাগে সংযুক্ত নয়। এইটাও একটা ওয়াটার লগড জেলা। এটা বাংলাদেশের অংশ। তাদের অধিকার রয়েছে বাংলাদেশের অন্যান্য সকল জায়গার যোগাযোগ ব্যবস্থার যে সুবিধা তারা পেয়ে আসছেন, ভোলা এখন এটা পেতে চায়, এটা পাওয়া তাদের অধিকার।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই আরেকবার। তার সফরের পরে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম, আরেকবার অভিনন্দন জানাই। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বিষয়ে তিনি শক্তিশালী বন্ধু দেশ চিনের সাথে কথা বলেছেন। এবং পানি সম্পদ মন্ত্রী তার বক্তব্যে আশ্বস্ত করেছেন যে ইনশাল্লাহ যে নামেই হোক কাজ শুরু হয়ে যাবে। আমরা নামের কাঙ্গাল নই, আমরা কামের কাঙ্গাল। কামটাই দেখতে চাই।
স্পীকার মেজর অব: হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আরেকটু ধন্যবাদ জানাতে চাই, যে কথা আমি এই চেয়ার থেকে বলতে পারি না। আমার জন্মভূমি, আমার নির্বাচনী এলাকা ভোলার সমস্যাগুলো এখানে তুলে ধরতে পারছি না এই চেয়ারে বসার কারণে, সেটি তিনি অনুগ্রহ করে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখেছেন। আশা করি তার এই বক্তব্যের প্রতি মাননীয় অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী সুবিচার করবেন।