বিয়ের সময় কনের মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনের দেওয়া সোনার গয়নার মালিকানা সম্পূর্ণভাবে স্ত্রীর—এমন গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্টভাবে বলেছেন, স্বামী বা তার পরিবারের কোনো সদস্য এসব গয়নার ওপর আইনগত অধিকার দাবি করতে পারবেন না।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডন জানায়, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি শাকিল আহমেদ রায়ে উল্লেখ করেন, স্ত্রীর গয়না বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি আটকে রাখা তার মালিকানা অধিকারের লঙ্ঘন। এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার চাইতে পারবেন।

এই রায় আসে পাকিস্তানি নারী শাজিয়ার দায়ের করা যৌতুকের সামগ্রী ও সোনার গয়না ফেরত পাওয়ার মামলায়। ওই মামলায় স্বামী গোলাম হাবিব লাহোর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন।

প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদির নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ আপিলের শুনানি শেষে লাহোর হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর লাহোর হাইকোর্ট পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে গোলাম হাবিবকে তার স্ত্রীর সোনার গয়না ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ভরণপোষণের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন।

শুনানিতে শাজিয়া আদালতকে জানান, বিয়ের সময় তাঁর মা-বাবা তাঁকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ৮৭ তোলা সোনার গয়না উপহার দিয়েছিলেন। আদালত সেই দাবি গ্রহণ করে রায়ে বলেন, এ ধরনের উপহার কেবল স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ওপর অন্য কারও মালিকানা প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।

এই রায়কে পাকিস্তানে নারীর সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে বিচারপতি শাকিল আহমেদ তার পর্যবেক্ষণে বলেন, কনেকে উপহার দেওয়া গয়না কেবল আনুষ্ঠানিক অলংকার নয়; এটি অনেক সময় বিয়েতে আবদ্ধ হওয়া একজন নারীর আর্থিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রতীক।

এ ধরনের সম্পত্তি যৌতুক, বিয়ের উপহার বা ব্যক্তিগত জিনিস, যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, তা কেবল কনেরই একচ্ছত্র সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। এর ওপর স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কোনো অধিকার থাকবে না।

রায়ে বলা হয়, ‘স্বামী বা তার পরিবারের এই ধরনের সম্পত্তি অননুমোদিতভাবে আটকে রাখা, কেড়ে নেওয়া বা আত্মসাৎ করা স্ত্রীর মালিকানা অধিকারের বেআইনি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রী উপযুক্ত পারিবারিক আদালতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধারের দাবি জানানোর অধিকার রাখেন।’

১৯৬৪ সালের পাকিস্তানের পারিবারিক আদালত আইনের ৫ নম্বর ধারার আইনি কাঠামোতে পারিবারিক পরিমণ্ডলে নারীর অর্থনৈতিক অধিকারের সচেতন ও প্রগতিশীল স্বীকৃতি প্রতিফলিত হয়েছে।

এই আইন বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, সন্তানের অভিভাবকত্ব, যৌতুক এবং স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিষয়ে পারিবারিক আদালতকে একচ্ছত্র কর্তৃত্ব দিয়েছে।