ইসলামাবাদ ও তেহরান — সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার পর রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানী ইসলামাবাদ-এর একটি সামরিক ঘাঁটিতে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট [আসিফ আলি জারদারি](প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই পেজেশকিয়ানের প্রথম কোনো বিদেশ সফর। মূলত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দিনব্যাপী এই সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে পাকিস্তানি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। এর আগে পাকিস্তানের সরাসরি মধ্যস্থতায় গত ১৮ জুন ঐতিহাসিক 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' স্বাক্ষরিত হয়, যা সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে মার্কিন-ইরান আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ সুগম করে।

সুইজারল্যান্ডের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চিরতরে অবসানের লক্ষ্যে একটি ৬০ দিনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবরুদ্ধ ১২ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক তহবিল মুক্ত করতে এবং আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত তেহরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে ইরান বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রি করতে পারবে। এছাড়া লেবাননে সংঘাত প্রশমনে একটি যৌথ 'ডি-কনফ্লিকশন সেল' গঠন এবং বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

চুক্তির সামগ্রিক অগ্রগতি সত্ত্বেও কিছু বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্পষ্ট ভিন্নমত বা বৈপরীত্য প্রকাশ পেয়েছে। এনপিআর নিউজ-এর তথ্য অনুসারে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন যে, আলোচনায় অংশ নিয়ে ইরান তাদের ওপর বোমাবর্ষিত পরমাণু স্থাপনাগুলো জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর পরিদর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করতে রাজি হয়েছে। তবে তেহরানে নিযুক্ত ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে জানান যে, আইএইএ পরিদর্শকদের কোনো নতুন সফরের সূচি এখন পর্যন্ত নির্ধারিত হয়নি।