ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নারী ও পুরুষ গ্রাহক অংশ নেন।
সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ব্যাংকটিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসবে না। বর্তমানে আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাই দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিলেও গ্রাহকদের প্রতিবাদের মুখে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে একজন নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে ব্যাংক পরিচালনার সব ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের মতো বৃহৎ একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে একজন ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নুরুন্নবী মানিক অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দ্রুত নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আশ্বাস দেওয়া হলেও বারবার সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রাহকদের মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ব্যাংকটির পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করা সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পাশাপাশি যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা যেতে পারে।
সমাবেশ থেকে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১৪ জুলাই দেশের প্রতিটি জেলা সদরে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপরও দাবি পূরণ না হলে ১৮ জুলাই সারাদেশের গ্রাহকদের অংশগ্রহণে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নুরুন্নবী মানিক বলেন, এ উদ্যোগ দ্রুত সংসদে বিল আকারে পাস করে আইনে পরিণত করতে হবে, যাতে ব্যাংক লুটেরাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকের পরিচালনায় অংশ নিতে না পারেন।
এ ছাড়া তিনি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর আরোপিত ‘হেয়ার কাট’ ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণার দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি জানান। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগে অভিযুক্ত এস আলম গ্রুপসহ সংশ্লিষ্টদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের ঋণের সঙ্গে সমন্বয় এবং ব্যাংক লুটেরাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্য ইয়াসিন বলেন, পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর এখনো নতুন পর্ষদ গঠন না হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ২০১৭ সালের আগে দায়িত্বে থাকা পরিচালনা পর্ষদের অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য সদস্যদের পুনর্বহালের দাবি জানান।
ইয়াসিন আরও বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে, খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করতে হবে এবং এস আলম গ্রুপের শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের পাওনা আদায়ে ব্যবহার করতে হবে।
সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নারী ও পুরুষ গ্রাহক অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।