যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; এর জন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আজ (২০ জুলাই ২০২৬) ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)-এর উদ্যোগে ‌‌''ডেঙ্গু-জ্বর সচেতনতামূলক সাইন্টিফিক সেমিনার" শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশে ডেঙ্গু জ্বরের ক্রমবর্ধমান প্রকোপ, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক অবদানের প্রশংসা করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগম এমপি। অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর-উল আলম (সোহেল), সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ। প্যানালিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিসিএস হেলথ ফোরাম সভাপতি অধ্যাপক ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান, বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার মাহবুব ইসলাম মজুমদার, পাবলিক হেলথ স্পেশালিষ্ট/ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আব্দুল্লাহ সাঈদ খান।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে মারজিয়া বেগম এমপি বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তিনি গুজব ও অপচিকিৎসা থেকে বিরত থেকে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

কী-নোট স্পিকার ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর-উল আলম (সোহেল) ডেঙ্গু রোগের বর্তমান পরিস্থিতি, এডিস মশার জীবনচক্র, রোগের লক্ষণ, সতর্ক সংকেত (Warning Signs), রোগ নির্ণয়, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং জটিলতা প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা করেন। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন বা বিলম্বিত চিকিৎসা রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু এখন একটি মৌসুমি সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালের পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তিনি চিকিৎসকদের সর্বদা জনগণের পাশে থেকে সেবা প্রদানের আহ্বান জানান।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষক, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।