মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি "দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স" নামক একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে সংঘটিত পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ২টি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত নির্মাণসামগ্রীর বৃহত্তম অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) বিকালে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, ডাকাতির ঘটনায় আনুমানিক ২৩-২৪ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে। অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার, লুণ্ঠিত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে গজারিয়া থানা পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত ১৯ জনের মধ্যে ৪ জনকে ১৪ জুলাই, ১০ জনকে ১৫ জুলাই এবং ৫ জনকে ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—মোঃ মাইন উদ্দিন (৪৫), মোঃ ছোটন (৩০), মোঃ রিয়াজুল ইসলাম (২৬), মোঃ আবুল খায়ের (৪০), মোঃ শাহ আলম (২৩), মোঃ রনি শিকদার (৩৪), মোঃ মেহেদী হাসান (৩৮), মনোরঞ্জন দাস (২৭), মোঃ আল আমিন সানা (১৯), অলোকেশ মন্ডল (৩৫), সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪), মোঃ অলিউর রহমান (২৪), মোঃ জামাল (৪০), মোঃ মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬), মোঃ সজল হোসেন (৩০), মোঃ আরিফ (৪০), মোঃ মিরাজ (৪০), মোঃ আলী (৪০), এবং মোঃ রফিক (৩৩)।

উল্লেখ্য গত (১১ জুলাই ২০২৬) রাত আনুমানিক ২টার দিকে গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি এলাকায় "দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স" কনস্ট্রাকশন সাইটে ৩-৪ জন সশস্ত্র ব্যক্তি প্রবেশ করে সেখানে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাদের হাত-পা বেঁধে ও চোখ বন্ধ করে একটি কনটেইনার রুমে আটকে রেখে সাইটে থাকা বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে লুণ্ঠিত মালামালের মূল্য আনুমানিক ৪০-৫০ লক্ষ টাকা বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম, এর নির্দেশনায় গজারিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে ঘটনাস্থলে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে আসামিদের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও ভুক্তভোগীরা মালামাল পরিবহনের সময় সামনের অংশ হলুদ রঙের একটি ট্রাক দেখতে পাওয়ার কথা জানান। এই সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে গজারিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে দুটি ট্রাককে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। পরবর্তীতে যানবাহনের মালিকানা, ট্রাক ভাড়া নেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি ট্রাক শনাক্ত করা হয়। ঐ ট্রাকের মালিকসহ ট্রাকটি ভাড়া নেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় দি জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স এর পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিলের পর ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে গজারিয়া থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। একই দিন গ্রেফতারকৃত চারজনকে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, লুণ্ঠিত মালামাল পরিবহনের জন্য ঐ রাতে আরও একটি ট্রাক ব্যবহার করা হয়েছিল। গজারিয়া থানা পুলিশ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় ট্রাকটিও জব্দ করে এবং এর চালককে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য ও তদন্তে প্রাপ্ত অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে শ্রমিক ও স্থানীয় সহযোগীসহ এ পর্যন্ত মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।