সুপ্রিয় পাঠক ‘পানি লাগবে, পানি ? বলে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের কথা। মাত্র দুই বছর পর তার কথা কতটুকু মনে আছে দেশের মানুষের, সরকারের কাছে। তার জীবন উৎসর্গ করে আনা জুলাইয়ের প্রেরণা এবং আকাক্সক্ষা কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে রাষ্ট্রে। আর কতটুকু-ই বাকী আছে। জুলাইয়ের অর্জন নিয়ে কতটুকু সন্তুষ্ট শহীদ পরিবারগুলো ? দৈনিক সংগ্রামের সাথে কথা বলেছেন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহফুজুর রহমান স্নিগ্ধ।
দৈনিক সংগ্রামের সাথে আলাপকালে জুলাই হত্যা, জুলাই সনদ এবং শহীদ এবং আহত জুলাইযোদ্ধাতের স্বপ্নের বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। তার প্রথম প্রশ্ন জুলাই হত্যার বিচার নিয়ে। জুলাইয়ের মূল্যায়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, জুলাইয়ের শহীদ মানুষ হত্যার বিচার কি এখনো হয়েছে ? অনেকেই বলবে, হ্যাঁ হয়েছে তো। হাসিনার ফাঁসি হয়েছে যে, ওইদিনেই তো হয়েছে। আমি বলব, না হয়নি বিচার। এইবার বলেন আমার ভাইসহ ১৪০০ মানুষের যে গণহত্যা করা হয়েছে, তার বিচার কি হয়েছে ? মানলাম, বুঝলাম যারা দেশের বাইরে আছে, তাদের রায় কার্যকর করা সম্ভব না এখন। কিন্তু যারা এখন হাজতে আছে, তাদের রায় কেন এখনো হয়নি ? পুলক, দরবেশ বাবা, গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সাবেক আইনমন্ত্রীসহ যারা দেশে আছে, তাদের রায় কেন এখনো ঘোষণা করা হয়নি ? যারা গণহত্যাকারীদের দেশ ছেড়ে পালাতে সাহায্য করেছে, তাদের বিচার কেন এখনো হয়নি? একটা পুলিশের বিচার হয়েছে, শুনছেন এখনো? এর উত্তর কি আছে কারো কাছে? প্রশ্ন মীর স্নিগ্ধের।সবাই ভুলে গেছে এগুলো। ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা যারা হারিয়েছি, আমরা কি ভুলব কখনো।
এক প্রশ্নের জবাবে মীর স্নিগ্ধ বলেন, ২০২৪ সালের জুল্ইা মাসে যারা শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন তারা যে আকাক্সক্ষা নিয়ে রাজপথে নেমেছিল, যে বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যাশা নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছে আহত হয়েছে, সেই প্রতাশার বাস্তবায়ন গতদুই বছরে দেখি না। উল্টো দুই বছরে জুলাইয়ের যে স্পিডটা ছিল সেটা অনেকাংশেই নষ্ট হয়ে গেছে। আপনি যদি খেয়াল করেন দেখবেন জুলাই অভূত্থানের পরবর্তী সময়ে একটা বন্যা হয়েছিল। তখন মানুষ একসাথে ঝাপিয়ে পড়ে একসাথে যেভাবে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছিল; তখন মানুষের মধ্যে যে ঐক্যটা ছিল; আজকে দুই বছর পর সেই স্পৃহাটা কিন্তু মানুষের মধ্যে দেখতে পাাচ্ছি না। জুলাইয়ের স্পৃহাটা আমি বলবো ব্যাহত হয়েছে এই দুই বছরে। এভাবেই চলতে থাকলে জুলাই শহীদদের যে আকাক্সক্ষার বাংলাদেশের কথা বলা হচ্ছে এবং বাস্তবায়ন করতে চাই বা বাস্তবায়ন করা উচিত ছিল; তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যাবে।
চব্বিশ সালে উত্তাল ছিল বাংলাদেশষ পঁচিশ সালে জুলাইয়ের ঐক্য ধারণ করে বন্যা মোকাবিলা করা হলো। ছাব্বিশ সালে এসে আরেক রকম পরিবেশ দেখছি। সাতাশ সালের জুলাইকে কিভাবে দেখবেন বলে মনে করেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে মীর স্নিগ্ধ বলেন, এটা এখন নির্ভর করছে আমাদের জাতীয় ঐক্যের ওপর। আমাদের ফ্যাসিবাদ বিরোধী যে সকল রাজনৈতিক দলগুলো ছিল, সকলে যদি এক হয়ে যদি পুরাতন ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রকাঠামো আছে সেই রাষ্ট্রকাঠামো থেকে বের হয়ে নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর দিকে নিয়ে যেতে পারে সেক্ষেত্রে আমরা আশাবাদী সাতাশে আমরা ভাল কিছু দেখতে পারবো। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক দলগুলো একসাথে কাজ করেছে তাদের মধ্যে যদি ভাঙন তৈরি হয় তাহলে সামনের দিনগুলোতে আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হবে। এবং সামনের দিনগুলো আরও চ্যালেঞ্জিং হবে।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে কি শিক্ষা নেওয়া আছে এমন প্রশ্নের জবাবে জুলাই শহীদ পরিবারের এই সদস্য বলেন, চব্বিশের শিক্ষা হলো আমাদের জাতির মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে। তাদের মধ্যে ফাটল তৈরি হলে বাংলাদেশ বিরোধী শক্তিগুলো নিবে। এবং আমাদের দেশে সেই রকম একটা বিষয় আছে। এবার যদি শহীদদের আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ না হয় তাহলে আর কখনোই হবে না।
শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শহীদ। আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে আন্দোলনকারীদের খাবার পানি বিতরণ করতে গিয়ে গুলীবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
শহীদ মীর মুগ্ধ জুলাই যোদ্ধাদের পানি খাওয়ানোর সময় পুলিশের গুলীতে নিহত হোন। মৃত্যুর আগে মীর মুগ্ধের 'পানি লাগবে পানি' এ ডাক কোটি কোটি মানুষের হৃদয় কাঁড়ে।