মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার পৃথক দুটি স্থান থেকে এক অজ্ঞাত যুবক ও এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার নিমতলা রেলস্টেশন এলাকা এবং লতব্দী ইউনিয়নের দক্ষিণ লতব্দী গ্রাম থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে নিমতলা রেলস্টেশন সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ। স্থানীয়রা দুপুরের দিকে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঢাকা রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কাইয়ুম আলী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ট্রেনে কাটা পড়েই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের দক্ষিণ লতব্দী গ্রামের সড়কের পাশ থেকে নুরুল ইসলাম (৬৫) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। তিনি উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের চরগুলগলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল মিয়ার ছেলে।

নিহত অটোরিকশাচালক নুরুল ইসলাম (৬৫)
নিহতের ভাগনে মো. শাহীন জানান, তাঁদের ধারণা, যে গাড়িটি তাঁর মামাকে দুর্ঘটনায় আহত করেছিল, সেই গাড়ির লোকজনই তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথে মৃত্যু হলে মরদেহটি দক্ষিণ লতব্দী গ্রামের সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়।
সিরাজদিখান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, শনিবার দুপুরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নুরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। এতে তাঁর অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়িতে তুলেছিলেন। কিন্তু পথে তাঁর মৃত্যু হলে ঝামেলা এড়াতে মরদেহটি দক্ষিণ লতব্দী গ্রামের সড়কের পাশে ফেলে রেখে যান। মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।